rrk

শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দুদিন ধরে মাথায় একটা প্রশ্নই বার বার উঁকি দিচ্ছে, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কী এমন অপরাধ করেছিলেন যে, হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা সেখানে ঘটাতে হয়েছিল? তাও আবার অন্য কেউ নয়, স্বয়ং পুলিশের মাধ্যমে! প্রশ্ন উঠেছে, খুনি কে বা কারা? কেউ কেউ তুলনা করছেন পাকিস্তান সময়ের শিক্ষক হত্যার সঙ্গে। যে পাকিস্তানের সময়কালকে আমরা মন ভরে ঘৃণা করি, সেই সময়ের কথা আসছে কেন এই বিজয়ের মাসে? আমাদের স্বাধীন দেশেও শিক্ষক হত্যা হয়েছে, কিন্তু তা অপশক্তির কালো থাবায়। কিভাবে ভাবা যায়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনও সদস্যের হাতে একজন শিক্ষক হত্যার কথা? তাহলে কে এই হত্যার জন্য দায়ী? ওই পুলিশ সদস্য নাকি তাকে যে নির্দেশ দিয়েছে সেই লুকায়িত প্রভাবশালী কোনও মহল, যাদের নিয়ে কথা বলতে আমরা সবাই ভয় পাচ্ছি? সবাই এমনভাবে নীরব ভূমিকায় আছি যেন এই ঘটনাটি অন্য আট/দশটি ঘটনার মতোই স্বাভাবিক। আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ম নিয়ে সাম্প্রদায়িক স্ট্যাটাস দিতে যতটা উৎসাহী ততটাই অনুৎসাহী যেন শিক্ষকের মৃত্যু নিয়ে কথা বলতে। গণমাধ্যম কারিনা কাপুরের গর্ভকালীন সময়ের খাবারের ডায়েট আমাদের জানাতে যতটা সরব, ঠিক ততটাই যেন নীরব এই ক্ষেত্রে সত্য অনুসন্ধানে। এই সত্য আমাদের জানা দরকার। নয়তো জাতি হিসেবে আমাদের প্রতি মুহূর্তে লজ্জিত হতে হবে। এই হত্যার প্রকৃত খুনি কে বা কারা? উত্তরটির একটা ক্লু নিহত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের মেয়ে সামিহা আজাদের কান্না জড়িত কণ্ঠেই উচ্চারিত হয়েছে: ‘যাদের লাঠিপেটায় বাবা মারা গেছেন, তারা যত ক্ষমতাবান আর প্রভাবশালীই হোন না কেন, দেশের আইনের চেয়ে তারা বড় নন। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’ মেয়ে সামিহা আজাদ আসলে কাদের বুঝাতে চাইছেন?

বিভিন্ন পত্রিকার খবর অনুযায়ী, পুলিশ কলেজের ভেতরে গিয়ে শিক্ষকদের ওপর লাঠিপেটা করেছে। কিন্তু কেন, তা স্পষ্ট নয়। আমাদের খুঁজে বের করতে হবে, কাদের নির্দেশে কলেজের ভেতরে গিয়ে এই হত্যাযজ্ঞ চালায় পুলিশ। স্বাভাবিকভাবেই এতটুকু আঁচ করা যায়, কারো নির্দেশ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী শিক্ষকদের পেটাতে কলেজ চত্বরে প্রবেশ করেনি। নাকি পুলিশ নিজেই স্বপ্রণোদিত হয়ে শিক্ষক পেটাতে গেছেন?

পুলিশ তো রাষ্ট্রেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্মীবাহিনী। পুলিশের কাজ আসলে কী? আন্দোলনরত কোনও শিক্ষক কিংবা পথচারীকে পেটানো? আন্দোলনকারীকে মেরে ফেলা? নাকি নাগরিকের অধিকার সুনিশ্চিত করা, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি ভালো রাখা? কিছু ব্যক্তির কারণে বাস্তব চিত্র কিন্তু ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। ঢালাওভাবে পুরো বাহিনীকে আমরা আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করলে অন্য অপশক্তি এটাকে পুঁজি করতে পারে। কেননা এই বাহিনীই আবার আমাদের জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক পুলিশ সদস্য জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অপারেশন চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, এই বাহিনীরই কেউ প্রতিদিন একজন গরিব রিকসাওয়ালার কাছ থেকেও যানবাহন থামিয়ে চাঁদাবাজি করছে। কেউ আবার শিক্ষক কিংবা সাঁওতাল হন্তারক হয়ে উঠছে। কিন্তু কেন? একটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, যাদের কাজ দেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, তারাই কিনা আইন ভঙ্গ করে ফেলছে- সেই বিবেচনায় বিষয়টিকে এতটা সাদামাটা করে দেখার অবকাশ আছে কি? কিছু প্রশ্ন মনের মাঝে উঁকি দিচ্ছেই।

পুলিশ প্রশাসন কি স্থানীয় ‘প্রভাবশালী চক্র’ দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছে? হচ্ছে না বলে অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই দ্বিতীয় প্রশ্ন, এই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী চক্রের মাঝে ক’জন আত্মত্যাগী নেতা আর ক’জন সুবিধাভোগী শ্রেণির? নাসিরনগর, গোবিন্দগঞ্জ এবং সর্বশেষ ফুলবাড়ীর ঘটনার পরও কি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবেন না কারা, কিভাবে, কেন, কার স্বার্থ হাসিলের জন্য রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে? এতে সরকারের ভাবমূর্তি কোথায় গিয়ে ঠেকছে? কেন কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের স্বার্থ রক্ষায় একটি দেশ, একটি সরকার এবং একটি দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে? যেখানে সরকারপ্রধান সারাবিশ্বকে অবাক করে দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে চলছেন।

বিষয়টি আরেকটু স্পষ্ট করি। নাসিরনগরে পূজামণ্ডপে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়া আগুন, গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ভূমি নিয়ে বিরোধ, নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক শ্যামল কান্তির কান ধরে ওঠা-বসা করানো এবং সর্বশেষ ফুলবাড়ীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শিক্ষকের লাশ। চারটি ঘটনাতেই যাদের প্রভাব চোখে পড়ছে তারা স্থানীয় প্রভাবশালী, প্রশাসন, সংসদ সদস্য ও তাদের সহযোগিরা।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত ফুলবাড়ীয়া কলেজে শিক্ষার্থী পাঁচ হাজার তিনশ’ এবং কলেজটিতে সাতটি বিষয়ে স্নাতকও (সম্মান) পড়ানো হয়। অথচ সেটিকে বাদ দিয়ে তুলনামূলক নতুন একটি উচ্চমাধ্যমিক কলেজকে জাতীয়করণের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। খুব স্বাভাবিক কারণেই এই ধরনের একপেশে সিদ্ধান্ত জনমনে বিরূপ ধারণার জন্ম দিয়েছে। ওই কলেজের শিক্ষকদের যারা এতদিন ধরে আশা করে আসছিলেন যে, তাদের কলেজকেও জাতীয়করণ করা হবে তাদের মনে ক্ষোভ তো জন্ম নেবেই। এটা তো স্বাভাবিক। এলাকাবাসীও অভিযোগ করেছে, স্থানীয় সাংসদ মোসলেম উদ্দিনের প্রভাবেই বড় কলেজটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি জানার পর, এলাকার মানুষ গাছের গুঁড়ি ফেলে, টায়ারে আগুন ধরিয়ে ময়মনসিংহ-ফুলবাড়ীয়া রাস্তা বন্ধ করে দেয়। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এলাকার মানুষের পক্ষে না থেকে সংসদ সদস্যের পক্ষে কাজ করাটা কতটা যৌক্তিক তা পুলিশবাহিনীকে ভেবে দেখতে হবে, আদৌ যদি সেই ক্ষমতা পুলিশবাহিনীর থেকে থাকে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাহিনীকে স্থানীয় ক্ষমতাধর মানুষ তাদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন করবে, তা তো হতে পারে না। শিক্ষক-ছাত্র আন্দোলন করছে, তাতে এমন কী অপরাধ হলো যে পুলিশবাহিনীর কেউ পিটিয়ে মেরে ফেলবে একজন শিক্ষককে? শিক্ষকের কণ্ঠস্বর কি দমিয়ে দিতে হবে? দেশের নাগরিক হিসেবে একজন শিক্ষক আন্দোলন-প্রতিবাদ করতে পারবে না? অধিকার আদায়ের লড়াই করবে না? আন্দোলন করলে প্রয়োজনে মেরেই ফেলবে? যে দুষ্টচক্র নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, সময় এসেছে এই চক্রের মুখোশ উন্মোচন করার। নিজেদের রক্ষা করার জন্য তাদের নেওয়া নানা তোষামোদিসম্পন্ন কৌশলকে তোয়াক্কা না করে জনমতের পক্ষে দাঁড়াতে হবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের।

পুলিশ বলছে, ওই শিক্ষক আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। বাহ্! এখনতো দেখছি, খুন-হত্যা-ধর্ষণের মতো বড় কোনও ঘটনা ঘটিয়ে ‘খুনি’রা তার বৈধতা দেওয়ার নতুন পথও তৈরি করে নিচ্ছে। অবশ্য এটা তো তনু হত্যার ক্ষেত্রেও আমরা দেখেছি। তর্কের খাতিরে শিক্ষকের হৃদরোগে আক্রান্তের বিষয়টি যদি ধরেও নেই, তবু একজন শিক্ষককে কিভাবে পুলিশ লাঠিপেটা করলো? শিক্ষক লাঠি পেটানোর ঘটনা এই প্রথম ঘটেছে, তা নয়। কিন্তু এভাবে এতটা নির্দয়ভাবে একজন শিক্ষকের মৃত্যু এবং তার পরবর্তী সময়ে অমানবিকতার চরম রূপ আমার শিক্ষক মনকে তাড়িত করছে প্রতি মুহূর্তে, ব্যথিত করছে। হত্যার পর ১৪৪ ধারা জারি করে পুলিশ নিহত শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোরও সুযোগ দেয়নি… কী নির্দয়-নিষ্ঠুর আচরণ! একজন বেসরকারি কলেজের সামান্য বেতন প্রাপ্ত শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীদের শেষ ভালোবাসা পাওয়াই যে তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, তা কেবল একজন শিক্ষক হৃদয়ই উপলব্ধি করতে পারবেন, কোনও নিপীড়নকারী অপশক্তির পক্ষে তা অনুধাবন করা সম্ভব নয়। কিন্তু রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব ও মানবিকতাবোধ এতটা নিম্নস্তরে নেমে গেলে নাগরিক হিসেবে আমরা আমাদের আস্থার জায়গা কোথায় খুঁজবো?

সময় এসেছে নিয়মিত যথাযথ প্রশিক্ষণ ও নানা ওয়ার্কশপের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে পুলিশ সদস্যদের ধারণা দেওয়ার। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর সদস্য হিসেবে তাদের দায়িত্বশীল আচরণ, মানবিক মূল্যবোধ, জনবান্ধব আচরণ, পুলিশ-জনতার পারস্পরিক সম্পর্ক ও সেবাদানের মন-মানসিকতা তৈরি করতে হবে। অনেক পুলিশ সদস্য ৮ ঘণ্টার জায়গায় কখনও কখনও ১৬ ঘণ্টা কাজ করছেন। এটি তাকে কাজ করার সুস্থ পরিবেশও দেয় না। তার কাজের বাস্তবতাও তাকে একভাবে মানসিক পীড়া প্রদানে সহায়ক হয়ে উঠেছে। পুলিশ বাহিনী এখনও ঔপনিবেশিক আমলের আইন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। একবিংশ শতাব্দীর এই দিনে ১৮৬১ সালের আইন দ্বারা পরিচালিত পুলিশ বাহিনী তো তাহলে কলোনিয়াল লিগেসিকেই ধারণ করে চলছে। তাহলে উত্তর-ঔপনিবেশ সময়কালে বসে আমরা উপনিবেশবাদের হত্যাযজ্ঞ-শোষণ-নিপীড়ণের চিত্র দেখবো, এটাই স্বাভাবিক। তাই পুলিশ জনতার বন্ধু নয়, বরং রাষ্ট্রযন্ত্রের নিপীড়ক শক্তি হিসেবে আমাদের কাছে তার মুখোশ উন্মোচন করবে ক্ষমতাশীলদের ইশারা-ইঙ্গিতে, এটাই এই মুহূর্তের সত্য। পুলিশ কী করে শিক্ষকের গায়ে লাঠি তুলে? কেন? শিক্ষকের এই আন্দোলনের সঙ্গে পুলিশের কোনও স্বার্থ জড়িত নয়, বরং যাদের স্বার্থ জড়িত তারা কি তাহলে পুলিশকে ব্যবহার করছে? একজন পুলিশ সদস্য কতটা ব্যবহৃত হবেন? প্রভাবশালী কেউ হুকুম করলেই, যে কাউকে মেরে ফেলতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী? পুলিশ সরকারের অধীনে কাজ করবে, আইন তাই বলে। কিন্তু পুলিশ ব্যক্তি মানুষের প্রভাব বলয়ে কাজ করবে তা কি করে হয়? এই থেকে উত্তরণের উপায় কী? কলোনিয়াল সময়কালের আইন পরিবর্তন করে একটি আধুনিক, বন্ধুত্বপূর্ণ, জনবান্ধব পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলার উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকার হয়ে ধরা দেবে।

সবশেষে বলবো, খুব সম্প্রতি দেশের নানান জেলায় নানান ধরনের উস্কে দেওয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু হয়েছে। মনে রাখতে হবে, যারা দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে তারা এই উস্কে দেওয়ার রাজনীতি করতে পারে না। আমাদের কাজ কোনও সমস্যাকে দেখে তা উস্কে দেওয়া নয়, বরং তা সমাধানের সঠিক পথ খুঁজে বের করা। উস্কে দেওয়াটা খুব সহজ, নাসিরনগর তার বড় প্রমাণ। কিন্তু সমাধান করার মনমানসিকতা আছে এমন মানুষের আজ বড়ই অভাব, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। কারা, কিভাবে, কেন, কোন প্রক্রিয়ায় এই ধরনের সংঘর্ষ-উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরির মধ্য দিয়ে দেশকে একধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চক্রান্ত করছে তা খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, সাম্প্রতিক সময়কালের প্রতিটি ঘটনার পেছনের অপশক্তি এই চক্রান্তকারীরা কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধ শক্তি নয়, বরং নিজ ঘরনার মধ্যেই এবং পারস্পরিক স্বার্থান্ধে যেকোনও কাজ করছেন তারা। তাই যখন নিজ ঘরে অপশক্তির জন্ম হয়, তা শনাক্ত করা কেবল কঠিনই নয়, দুরূহও বটে। এই ধরনের অপশক্তি ব্যক্তিস্বার্থের জন্য এতটাই হীন ও জঘন্য কাজ করে যে, তখন আসলে সরকারের ভাবমূর্তিকেই বিকিয়ে দেয়। কেননা এই দুষ্টচক্রের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার চেয়ে নিজের স্বার্থরক্ষা অনেক বড়। সেটাই আজ আমাদের ভাবাচ্ছে। যেমন ফুলবাড়ীর মতো ‘প্রভাবশালীরা’ যদি নিজেদের কলেজ জাতীয়করণ করতে সফল হয়, তখন তারা অন্য কলেজের আন্দোলনকারীদের দমিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ বাহিনীকে লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করে এবং প্রয়োজনে শিক্ষকের লাশ ফেলে দেওয়ার মতো কাজও করাতে পারে আবার অন্যদিকে যদি তাদের কলেজ জাতীয়করণ না করা হতো, সেক্ষেত্রে তারা নিজেদের কলেজে আন্দোলনকে উসকে দিতো যেন তাদের কলেজকে জাতীয়করণ করা হয়। এই সত্য দেশের সর্বত্র। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া নাসিরনগর সহ প্রতিটি ঘটনাই কোনও না কোনওভাবে খুব ব্যক্তিকেন্দ্রিক, উস্কানিমূলক ও ক্ষমতাশীলদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট।

শেষ করবো একটাই দাবি জানিয়ে যে, শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ হত্যার বিচার চাই এবং তার সাথে সাথে পথচারী সফর আলীর হত্যারও। এই হত্যার দায় রাষ্ট্র এড়িয়ে যেতে পারে না এবং রাষ্ট্রকেই প্রকৃত হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে হবে, যারা আসলে এই ধরনের ঘটনার মূলে থাকলেও রয়ে যায় আমাদের চোখের আড়ালে, কখনও কখনও চোখের মনি হয়ে।

logo_bati

Sharing